লেপার্ড দেখতে রাজাজি

এপ্রিল মাসের শেষ দিকে পৌঁছলাম দিল্লি। তারপর গাড়িতে দেরাদুনগামী রাস্তায় মিরাট, মুজফফরনগর, রুরকি পেরিয়ে, ঘণ্টা পাঁচেকে রোসেট ফার্মস্টেড। রাজাজি ন্যাশনাল পার্কের চিল্লাওয়ালি (মোহান্ড) গেট থেকে এই রিসর্টের দূরত্ব মিনিট দশেক।
১৯৮৩ সালে রাজাজি, মতিচুর আর চিল্লা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারিকে মিশিয়ে রাজাজি ন্যাশনাল পার্ক তৈরি হয়— স্বাধীনতা সংগ্রামী, ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রথম রাজ্যপাল চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারীর নামে। ২০১৫ সালে, আশপাশের আরও কিছুটা জঙ্গল নিয়ে রাজাজি টাইগার রিজার্ভ তৈরি হয়। বাঘের দর্শন খুবই বিরল ঘটনা এখানে, কিন্তু বিগত দু'-তিন বছরে এই জঙ্গল বন্যপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে চিতাবাঘের জন্য। রাজাজি ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশের গেট মূলত পাঁচটি— চিল্লা, মোতিচুর, রামগড়, হরিদ্বার, চিল্লাওয়ালি। চিল্লা, হরিদ্বার এবং মোতিচুর গেট দিয়ে ঢোকার জন্য হরিদ্বার কিংবা হৃষীকেশ থেকে আসা যেতে পারে। রামগড় গেটটি দেরাদুন থেকে এবং চিল্লাওয়ালি গেটটি সুন্দরপুর কিংবা গণেশপুর থেকে কাছে।
পরদিন সকালে প্রথম সাফারি। ঠিক সাড়ে পাঁচটায় জঙ্গলের গেট খুলে গেল। বাতাসে বেশ শিরশিরানি ভাব। চার ঘণ্টার বনভ্রমণ। ভিড় অপেক্ষাকৃত কম। বনপথে যেতে যেতে চিতল, সম্বর, ময়ূর, বন্য শূকর এই সব চোখে পড়তে থাকল। মাঝেমধ্যে হাতির দল। হিমালয়ের তরাই অঞ্চলের ছোট ছোট পাহাড়, শালের জঙ্গল, অসংখ্য পাহাড়ি নালা পেরিয়ে এগোলাম আরও ভিতরের দিকে। সকালের লালচে আলোয় জঙ্গল উদ্ভাসিত।
চিল্লাওয়ালি, গাজোরো নালা পেরিয়ে অ্যান্টি পোচিং ক্যাম্পের পাশের ওয়াটারহোলের সামনে আসতেই দেখি আরও দু'-তিনটে জিপসি দাঁড়িয়ে। সামান্য দূরে গাছের ডালে শুয়ে একটা লেপার্ড হাই তুলছে, পাশ ফিরছে। কিছুক্ষণ ছবি-টবি তোলার পর গাছ থেকে নেমে গেল। আমাদের জিপসি-র চালক শাহরুখ জানালেন, এর নাম মায়া, বছর দু'য়েক বয়স। আবারও এক বিকেলের সাফারিতে মায়াকে দেখেছিলাম বেশ কিছুক্ষণ একটা জলাশয়ের পাশে বসে থাকতে, তারপর উঠে এসে অনেকক্ষণ ধরে জল পান করে ঘন জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে যেতে।
Esta historia es de la edición February 2025 de Bhraman.
Comience su prueba gratuita de Magzter GOLD de 7 días para acceder a miles de historias premium seleccionadas y a más de 9,000 revistas y periódicos.
Ya eres suscriptor ? Conectar
Esta historia es de la edición February 2025 de Bhraman.
Comience su prueba gratuita de Magzter GOLD de 7 días para acceder a miles de historias premium seleccionadas y a más de 9,000 revistas y periódicos.
Ya eres suscriptor? Conectar

ইয়েলবং
গুহার মধ্যে রুমতি নদীর পাথুরে খাতে হাঁটুজলে বুকজলে হাঁটা, উপর থেকে ঝরে পড়া নদীর জলে ভিজে যাওয়াইয়েলবংয়ে নদীখাত পদযাত্রার সেরা সময় মার্চ-এপ্রিল।

চোপতা তুঙ্গনাথ আউলি গরসন বুগিয়াল
হরিদ্বার থেকে দেবপ্রয়াগ, রুদ্রপ্রয়াগ, কুণ্ড হয়ে চোপতা। চোপতা থেকে তুঙ্গনাথ, চন্দ্রশিলা। তারপর যোশিমঠ থেকে বদ্রীনাথ, আউলি হয়ে গরসন বুগিয়াল। গাড়োয়ালের নিসর্গপথে বেড়ানোর সেরা সময় গ্রীষ্মকাল।

ভাগামনের চা-বাগানে
চা-বাগান, বুগিয়াল আর পাইনবনে ছাওয়া গাঢ় সবুজ ভাগামনে সারাবছর যাওয়া চলে। গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করে। ভাগামনের বাড়তি পাওনা প্যারাগ্লাইডিং।

নতুন পথে গোকিও হ্রদ অভিযান
থোনাক লা (৫,৪১৬ মিটার) আর রেঞ্জো লা (৫,৪৩৫ মিটার)-য় দাঁড়িয়ে সোজা তাকালে আকাশের গায়ে ঝকঝক করে এভারেস্ট শৃঙ্গ, আর চোখ নামালে হিমালয়ের নীলকান্তমণি গোকিও হ্রদ। এভারেস্টের পাড়ায় দু'দিক থেকে গোকিও হ্রদ অভিযানের সেরা সময় গ্রীষ্মকাল।

একুশে ফেব্রুয়ারি
১৯৯৮ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির রাতে, গাজী সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে আনিসুজ্জামানের সঙ্গে গভীর আলোচনার পর, ঢাকা শহরের রাস্তায় বাঙালির একুশের মিছিলের অংশ হিসেবে মাতৃভাষার জন্য রক্তদান করা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে ফুলের পাহাড়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলাম।

রণথম্ভোরের রাজকাহিনি
রণথম্ভোর অরণ্যে যাওয়া চলে ১ অক্টোবর থেকে ৩০ জুন। তবে, গ্রীষ্মে প্রখর দাবদাহ সহ্য করে জলের ধারে অপেক্ষা করলে বাঘের দেখা পাওয়ারই কথা।

মেঘালয় ভ্রমণ
একের পর এক জলপ্রপাত, হ্রদ, নদী, রুট ব্রিজ, প্রাকৃতিক গুহা— সব কিছু নিয়ে মেঘালয় প্রাকৃতিক সম্পদের এক অফুরন্ত ভাণ্ডার। বেড়ানোর সেরা সময় মার্চ থেকে জুন। তাপমাত্রা এ-সময় ১৬ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করে।

হাব্বা খাতুনের দেশে
কাশ্মীরের চেনাপথ ছেড়ে এক অচেনা কাশ্মীর ভ্রমণ। মারশেরি, বাঙ্গাস, লোলাব, মচ্ছল ও গুরেজ উপত্যকা। গুরেজ উপত্যকায় যেতে হলে যে গিরিবা পেরতে হয়, সেই রাজদান পাস শীতের মাসগুলোয় বরফে ঢাকা থাকে।

লিপুলেখ থেকে কৈলাস পর্বত দর্শন
কুমায়ুন হিমালয়ের লিপুলেখ গিরিবর্তে দাঁড়ালে দেখা যায় সুদূর তিব্বতের কৈলাস পর্বত। গাড়ি চলে যায় লিপুলেখ পাস পর্যন্ত। তবে, লিপুলেখ পাসে যেতে সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক অনুমতি লাগে। নাবি থেকে নাভিধাং হয়ে লিপুলেখ পাস ৩০ কিলোমিটার । নাবি থেকে আরেক পথে জলিংকং হয়ে আদি কৈলাসও ৩০ কিলোমিটার। পার্বতী সরোবরের ধারে আকাশ আলো করে দাঁড়িয়ে আছে আদি কৈলাস।

আয়ারল্যান্ডের পথে-প্রান্তরে
সাগর, নদী, হ্রদ, আদিগন্ত ঢেউখেলানো সবুজ উপত্যকা, প্রাচীন সব দুর্গ, প্রাসাদ, আড্ডাখানা নিয়ে আয়ারল্যান্ড গ্রীষ্মে ভারি মনোরম।